স্বাস্থ্য

স্টাফ রিপোর্টার: ধোবাউড়া উপজেলার অধিকাংশ খাবার হোটেল ও মিষ্টির দোকানের গুণগতমাণ নিয়ে নানা গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। ওজনে কম দেওয়া , দুর্গন্ধময় পরিবেশ, বাসি খাবার রাখা, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, রান্না ঘরে কুকুর-বিড়াল থাকা সহ বিভিন্ন অভিযোগে আজ সকাল ১১টা থেকে ধোবাউড়া সদর ইউনিয়নে বাসস্ট্যান্ড ও ধোবাউড়া বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাহদী হাসান। বিভিন্ন অপরাধে ৭ ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়। ধোবাউড়া বাসস্ট্যান্ডে “তানজিনা হোটেল” এর মালিক আব্দুল ছাত্তারকে ১০ হাজার টাকা ও হাসিনা খাতুনকে ১ হাজার টাকা, ধোবাউড়া বাজার থানারোডে মদিনা হোটেলের মালিক আব্দুর রশিদকে ৮ হাজার, মধ্যবাজার মায়ের দোয়া হোটেলের মালিক জমির বিশ্বাসকে ৫ হাজার টাকা, রুপন সাহা মিষ্টান্ন ভান্ডারের রুপন সাহাকে ৫ হাজার টাকা, ধামরাই মিষ্টান্ড ভান্ডারের মঙ্গল পালকে ৪ হাজার টাকা, ভাই ভাই হোটেলের মালিক হযরত আলীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর জানতে পেরে ধোবাউড়া সদরের বিভিন্ন দোকানপাট আজ বন্ধ: ছিল। তবে যাদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন নেই তাদের মধ্যে দ্রুত লাইসেন্স নবায়নের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) হচ্ছে চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গুর সঙ্গে এর বেশ কিছুটা মিল রয়েছে। ডেঙ্গুর মতোই এ ভাইরাসটিও এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস অ্যালবপ্টিকাস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গুর মতই মানবদেহ থেকে মশা এবং মশা থেকে মানবদেহে ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ছাড়াও বানর, পাখি এবং ইঁদুরে এ ভাইরাসের জীবনচক্র বিদ্যমান।

অনেকের ভাইরাস জ্বর বা ডেঙ্গু জ্বর হয়ে সেরে যাওয়ার পরও দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে শরীর ভাল যাচ্ছে না। সাধারণত যে কোনো ভাইরাস কিংবা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। অথচ দেখা যাচ্ছে জ্বর সেরে গেলেও রোগী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও দুর্বলবোধ করছেন, বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন গিটে গিটে ব্যথা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি খুব ভোগাচ্ছে। এসকল ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হিসেবে সন্দেহ করা হলেও এ রোগটি সম্ভবত ডেঙ্গু নয়, বরং এটি চিকুনগুনিয়া নামক একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পরবর্তী দুই থেকে চার দিনের মধ্যে আকস্মিক জ্বর এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা শুরু হয়, যা কয়েক সপ্তাহ, মাস এমনকি বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। এই রোগে মৃত্যু ঝুঁকি প্রতি দশ হাজারে এক জন বা এর চেয়েও কম অর্থাৎ মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের জটিলতা তুলনামূলক একটু বেশি হতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমানোর সময় মশারি টাঙানো ইত্যাদি বিষয়ে সাবধান হতে হবে।

চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
সাধারণ জ্বর বা ডেঙ্গু জ্বরের সাথে সাদৃশ্য থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়া একটু ভিন্ন রকম হয়। সাধারনত মশা কামড়ানোর ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই জ্বরের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও, কোনো উপসর্গই প্রকাশ পায় না। এ রোগটি সাধারণত আকস্মিক জ্বর, অস্থিসন্ধির ব্যথার মাধ্যমে শুরু হয়। নিম্নে চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ বা উপসর্গগুলি বর্ণনা করা হলঃ

  • চিকুনগুনিয়ার প্রথম লক্ষণই হল হঠাৎ করে উচ্চমাত্রার জ্বর আসা। আবার জ্বর চট করে ছাড়তেও চায় না। সাধারণত জ্বরের প্রচলিত ওষুধে অনেক সময় কোনও কাজই হয় না। এ জ্বর অনেকটা ডেঙ্গু জ্বরের মতোই। দেহের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে প্রায় ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। এ জ্বরে কোন কাঁপুনি বা ঘাম হয় না। জ্বর সাধারণত ২ থেকে ৫ দিন থাকতে পারে, এরপর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। এরকম লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে গাঁটের ব্যথা শুরু হয় । প্রথমে হাত এবং পা দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ব্যথা অনুভূত হতে শুরু করে। ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকার ফলে শারীরিক দুর্বলতাও বাড়তে থাকে।
  • চিকুনগুনিয়া জ্বরের ফলে গাঁটের ব্যাথার পাশাপাশি পেশীর ব্যথার সমস্যাও দেখা যায়। অনেক সময় পেশী এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে চলাফেরার সমস্যা শুরু হয় এবং ব্যাথা সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, এমনকি ফুলেও যেতে পারে। পেশিতে ব্যথা কিংবা অস্থিসন্ধির ব্যথা জ্বর চলে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে স্বাভাবিক কাজ করতে বাধা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা এতই বেশি হয় যে, রোগীর হাঁটতে কষ্ট হয় কিংবা সামনের দিকে বেকে হাঁটে।
  • রোগের শুরুতেই ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগ শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর জ্বর কমতে শুরু করলে ফুসকুড়ির আবির্ভাব হতে পারে।
  • অনিদ্রা হতে পারে।
  • গায়ে লাল লাল দানার মতো র‍্যাশ দেখা যেতে পারে।
  • কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।
  • চিকুনগুনিয়া জ্বরে অসহ্য মাথা ব্যথা হতে পারে। এই জ্বরে দীর্ঘসময় ধরে মাথা ব্যথার প্রভাব থাকতে পারে যা শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি ঘুমের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ব্যঘাত ঘটায়।
  • এই জ্বর হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারনে বার বার বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • জ্বর এবং ব্যথায় কাতর হয়ে অনেকের মধ্যে অবসাদের প্রভাব দেখা যেতে পারে। ফলে কোন কাজেই মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
  • অনেক ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখের মধ্যে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। আবার অনেক সময় চোখের ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা হয় এবং চোখ জ্বালা করে।
  • সাধারনত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা অনেক বেশি হয় এবং উপসর্গগুলো বেশিদিন থাকে।
  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর ভালো হয়ে গেলে কয়েকদিন দুর্বলতা বা ক্লান্তি লাগতে পারে কিন্তু সাধারণত এত দীর্ঘ সময় ধরে শরীর ব্যথা বা অন্য লক্ষণগুলো থাকে না।
  • আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হয়, যা অনেক সময় খুব ভয়াবহ হতে পারে। কিন্তু চিকুনগুনিয়া রোগে ডেঙ্গু জ্বরের মতো রক্তক্ষরণ হয় না এবং রক্তের প্লাটিলেট খুব বেশি হ্রাস পায় না।

রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা বিশেষ করে ভাইরাস পৃথকীকরণ, RT-PCR কিংবা সেরোলজির মাধ্যমে এ রোগ শনাক্ত করা যেতে পারে। রোগীর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এন্টিবডি দেখে এ রোগ সনাক্ত করা যেতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চিকিৎসা
চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা মূলত রোগের উপসর্গগুলোকে নিরাময়ের মাধ্যমে করতে হয়। এ রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই এবং কোন টিকাও এখনও পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি বা অন্যান্য তরল খেতে দিতে হবে। জ্বরের জন্য সাধারন প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে পানি দিয়ে শরীর মুছে দেয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথার ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। নিজে নিজে কোন ওষুধ না খাওয়াই ভাল।

রোগীকে যেন মশা না কামড়ায় এ জন্য রোগীকে অবশ্যই মশারির ভেতরে রাখতে হবে। কারণ- আক্রান্ত রোগীকে কামড় দিয়ে, পরবর্তীতে কোনো সুস্থ লোককে সেই মশা কামড় দিলে ওই ব্যক্তিও এ রোগে আক্রান্ত হবেন।

প্রতিরোধ
চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো টিকা এখনও পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। এটি যেহেতু এডিস মশাবাহিত রোগ, তাই মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে। যেমন- ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, লম্বা হাতাযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরে থাকা, বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেয়া ইত্যাদি। শুধু স্ত্রী জাতীয় এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়। আবার এরা একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। তাই দিনে ঘুমালেও অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এ মশার ডিম পানিতে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার প্রভৃতি স্থানে অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। যেহেতু এডিস মশা স্থির পানিতে ডিম পাড়ে তাই যেন বাড়ির আশেপাশে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সবশেষে
ডেঙ্গুজ্বরে সাধারনত চারবার পর্যন্ত হতে পারে। অপরদিকে চিকুনগুনিয়া একবার হলে সাধারণত আর হয় না। এছাড়া অনেক বিষয়েই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। এ রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এজন্য এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং মশা নির্মূল করার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। সাবধানতাই একমাত্র এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা প্রাত্যহিক জীবনে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই এ রোগ হয়েছে সন্দেহ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 সূত্র: ই-হাসপাতাল ডট কম.

স্টাফ রিপোর্টার: আজ বেলা ১২টায় ধোবাউড়া বিন্দুবাসীনি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ ছাত্রী ক্লাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। তরি নামের একজন ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে পাঠানোর পর আরিফা আক্তার, তানিয়া, সাবিকু্ন্নাহার, আয়শা খাতুন ও জান্নাত নামের ৬ জন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এ ঘটনার পর পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের পরামর্শে স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে জানান ভর্তিকৃত ছাত্রীরা ভাল আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডাঃ ওয়ায়েজ উদ্দিন প্রচন্ড গরম ও মানসিক কারণে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মেয়েরা অনেকেই খাবার না খেয়ে স্কুলে চলে আসে। তাছাড়া পানি কম পান করায় এই গরমে ডিকাইড্রেশন হয়ে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

0 821

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ আগামী ৩০ বছরের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতার শিকার হবেন । ফলে এদের মধ্যে এক পঞ্চমাংশের অন্ধ হওয়ার আশংকা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ ভয়াবহ তথ্য ওঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ভিত্তিক ব্রায়েন হোল্ডেন ভিশন ইন্সটিটিউট এ সমীক্ষা চালিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, দৃষ্টিক্ষীণতা বলতে দূরের জিনিস ভাল ভাবে দেখতে কষ্ট হওয়াকে বোঝানো হয় এবং এটি বিশ্বে স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হয়ে দেখা দেবে। গবেষকরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেছেন, ২০০০ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে ক্ষীণদৃষ্টি জনিত অন্ধত্বের হার সাত গুণ বাড়বে। বর্তমান বিশ্বে ক্ষীণদৃষ্টির অন্তত ২০০ কোটি মানুষ ভুগছেন। এ সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্রায়েন হোল্ডেন ভিশন ইন্সটিটিউট।

জীবন-যাপনের পরিবর্তনকে এটি বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, বাইরে প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানোর বদলে বেশির ভাগ সময় ঘরে বই পড়ে বা কম্পিউটারসহ অন্যান্য পর্দার দিকে তাকিয়ে সময় ব্যয় করছে শিশু। এ জাতীয় অভ্যাস দৃষ্টিক্ষীণতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। শিশুর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাদেরকে নিয়মিত বাইরে খেলাধুলা করতে পাঠানোর জন্য মা-বাবা কিংবা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ছাড়া, শিশুর কম্পিউটারসহ সব পর্দার ব্যবহারও সীমিত করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

0 877
www.newsdhobaura24.com

১. একজন মানুষের রক্তের পরিমাণ তার মোট ওজনের ১৩ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ ৬৫ কেজি ওজন মানুষের রক্তের পরিমাণ হল ৫ কেজি।
২. দেহে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ২৫০০ কোটি এবং এরা ৪ মাস বাঁচে।
৩. রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২৫০ কোটি এবং এরা মাত্র ১২ ঘন্টা বাঁচে।
৪. দেহের সব শিরাকে পাশাপাশি সাজালে দেড় একর জমির প্রয়োজন হবে।
৫. একজন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র এত লম্বা যে তা দিয়ে পৃথিবীকে ৭ বার পেঁচানো যাবে।
৬. কোন অনুভূতি স্নায়ুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঘন্টায় ২০০ মাইল বেগে প্রবাহিত হয়।
৭. দেহে ও মনে অনুভূতি আসলে তা মস্তিষ্কে পৌঁছতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগে।

৮. একজন শিশুর জন্মের সময় হাড় থাকে ৩৫০ টি।
৯. একজন মানুষ সারা জীবনে ৪০ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
১০. একজন মানুষের শরীরে চামড়ার পরিমাণ হচ্ছে ২০ বর্গফুট।
১১. একজন মানুষের চামড়ার ওপর রয়েছে ১ কোটি লোমকূপ।
১২. মানুষের শরীরে যে পরিমাণ চর্বি আছে তা দিয়ে ৭ টি বড় জাতের কেক তৈরি সম্ভব।
১৩. মানুষের শরীরে ৬৫০ টি পেশী আছে। কোন কোন কাজে ২০০ টি পেশী সক্রিয় হয়। মুখমন্ডলে ৩০ টির বেশী পেশী আছে। হাসতে গেলে ১৫ টির বেশী পেশী সক্রিয় হয়।
১৪. একস্থান থেকে শুরু করে সমগ্র শরীর ঘুরে ঐ স্থানে ফিরে আসতে একটি রক্ত কণিকা ১,০০,০০০ কিমি পথ অতিক্রম করে অর্থাৎ ২.৫ বার পৃথিবী অতিক্রম করতে পারে।
১৫. আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১০,০০০ টি বিভিন্ন গন্ধ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক: রক্তের অন্য নাম জীবন। কিন্তু এই জীবন- লাল রক্তকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কালো ব্যবসা। জীবন বাঁচানোর বদলে হচ্ছে জীবনহানি। রক্ত ব্যবসায়ী ও দালালদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্র লাল রক্তকে পুঁজি করে নেমেছে সর্বনাশা খেলায়। অর্থ হাতিয়ে নিতে রক্ত কেনা-বেচার নামে রোগীদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, রক্তের পরিমাণ বাড়াতে এতে মেশানো হচ্ছে স্যালাইন। সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদিত ব্লাডব্যাংক রয়েছে রাজধানীতে ৫৯, ঢাকার বাইরে ৩৫টি। সব মিলিয়ে ৯৪টি। কিন্তু বাস্তবে শুধু রাজধানীতেই রয়েছে দেড় শতাধিক ব্লাডব্যাংক। নামে-বেনামে চলছে এসব ব্লাডব্যাংক। রক্ত বিক্রি হচ্ছে সাধারণ পণ্যের মতো। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে বেশির ভাগ ব্লাডব্যাংকের কার্যক্রম।

সূত্রমতে, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৮ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ব্লাডব্যাংক থেকে সংগ্রহ হয় অর্ধেকেরও বেশি রক্ত। রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল, বক্ষব্যাধিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্লাডব্যাংক। এরমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অনুমোদন ছাড়াই ব্লাডব্যাংকের কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। ব্লাডব্যাংকগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে নানা অনিয়মের চিত্র। নাজিম উদ্দিন রোড, পান্থপথ ও ধানমন্ডিতে সাইনবোর্ড ছাড়াই ব্লাডব্যাংকের কার্যক্রম চালাচ্ছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সকাল ও সন্ধ্যার পর এসব ব্লাডব্যাংকে রক্তাদাতাদের আনা-গোনা বেড়ে যায়। তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। যাত্রাবাড়ীর লাইফ ব্লাড এন্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের সামনে কথা হয় রক্তদাতা এক যুবকের সঙ্গে। নিজের নাম শরীফ বলে জানান ওই যুবক। আড়াই মাস আগে লাইফ ব্লাড এন্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের রক্ত দিয়েছেন তিনি। বিনিময়ে ৩০০ টাকা পেয়েছিলেন। নিয়মানুসারে চার মাস পর ছাড়া আবার রক্ত দিতে পারেন না তিনি। তবু টাকার প্রয়োজনে রক্ত দিয়েছেন। একই অবস্থা পাওয়া গেছে নাজিম উদ্দিন সড়কের ক্রিয়েটিভ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারে। আশ-পাশের লোকজন জানান, সন্ধ্যার পর প্রায়ই মাদকাসক্তরা রক্ত দেন এই সেন্টারে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এই ব্লাডব্যাংকের পরিচালক হামিদুল ইসলাম। এই এলাকায় অনুমোদন না থাকলেও লাল রক্তের কালো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ডোনার ব্লাডব্যাংক। এই ব্লাডব্যাংকের রক্তদাতাদের অধিকাংশই মাদকসেবী। তার মধ্যে নিজাম, রহিম নামে দু’জন স্বীকার করেন যখন টাকা থাকে না তখন মাদকের জন্যই রক্ত বিক্রি করেন তারা। তবে ব্লাডব্যাংকগুলো প্রকাশ্যে এবং বেশি দামে তাদের রক্ত নিতে চায় না। নিজাম জানান, কয়েকদিন আগে ডোনার ব্লাডব্যাংকে রক্ত দিয়েছেন তিনি। বিনিময়ে তাকে মাত্র ১৫০ টাকা দেয়া হয়েছে। অল্প দামে রক্ত ক্রয় করলেও এসব রক্ত বিক্রি হয় ১৪০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রক্তদাতা সংগ্রহের জন্য ব্লাডব্যাংকগুলোর নির্দিষ্ট দালাল রয়েছে। প্রতি রক্তদাতা সংগ্রহের জন্য দালালদের দেয়া হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। একই অবস্থা লাইফ সেভ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন, মেডিসিন লাইফ সেভ ডায়াগনস্টিক ও কলাবাগানের ক্রিসেন্ট রোডের গ্রীন ভিউ ক্লিনিকের। ব্লাড স্ক্যানিং ক্রস ম্যাচিং না করা এবং ব্লাড ব্যাগে সোর্স ও ডোনারের প্রয়োজনীয় তথ্য নেই এসব প্রতিষ্ঠানে। এসব কারণে গত ৩১শে জুলাই গ্রীন ভিউ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায় কয়েক দালালকে। রঞ্জু নামে এক দালালের কাছে ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের প্রয়োজনের কথা বললে সে জানায় রক্ত দেয়া যাবে। তবে দাম একটু বেশি। ২০০০ টাকার বিনিময়ে রক্ত পৌঁছে দেবে হাসপাতালে। রক্তের উৎস গ্রীন রোডের মুক্তি ব্লাডব্যাংক। তার সঙ্গে যেতে চাইলে রঞ্জু জানায়, ওই প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে রক্ত কেনা-বিক্রি করে না। কারণ জানাতে পারেনি সে। পরবর্তীতে মুক্তি ব্লাডব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির শাটার লাগানো। দু’তলার সিঁড়ি দিয়ে উঠার পর দেখা যায় দরজার স্থানটকু খোলা। ভেতরে বসা ছিলেন কয়েক জন। এরমধ্যেই এক যুবক জানতে চান কেন এসেছেন? রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তির দিকে তাকান তিনি। জানান, রক্ত নেই। লাইসেন্স নবায়নের কাজ চলছে তাই কার্যক্রম বন্ধ। নিজের নাম মিজানুর রহমান বলে জানান তিনি। তবে সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের আতঙ্কে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে রক্ত কেনা-বেচা বন্ধ রেখেছে। কারণ রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের বিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনবল নেই প্রতিষ্ঠানটির।

সূত্রমতে, এসব প্রতিষ্ঠানে এক ব্যাগ রক্তকে দুই ব্যাগ করে বিক্রি করা হয়। রক্তের সঙ্গে মেশানো হয় স্যালাইন। দেখা গেছে অধিকাংশ ব্লাডব্যাংকের ব্যাগে রক্তের পরিমাণ কম। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাগের অর্ধেকই খালি থাকে। এমনকি কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাদকাসক্ত ও পেশাদার দাতাদের রক্ত সংগ্রহ করে এসব প্রতিষ্ঠান। লালমাটিয়ার ধানমন্ডি ব্লাডব্যাংক, শ্যামলী এলাকার ফেমাস জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ও মিরপুর রোডের বাংলাদেশ ব্লাডব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টারে রক্তের সঙ্গে স্যালাইন মিশিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

স্যালাইন মিশিয়ে এক ব্যাগ রক্তকে দুই ব্যাগ বানিয়ে বিক্রি করছিল ফেমাস জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ও বাংলাদেশ ব্লাডব্যাংক। র‌্যাব’র ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ৮ই জুলাই দুপুরে প্রতিষ্ঠান দুটিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও পরীক্ষা করা ছাড়া রক্ত জব্দ করে। পাশাপাশি দুই লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রতিষ্ঠান দুটিকে। র‌্যাব-২ উপ-পরিচালক ড. মো. দিদারুল আলম জানান, প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক মুনাফার লোভে পরীক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়াই রক্ত সংগ্রহ করে বিক্রি করে। এমনকি রক্তের সঙ্গে স্যালাইন মিশিয়ে এক ব্যাগ রক্তকে দুই ব্যাগ বানিয়ে বিক্রি করে তারা। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তখন জরিমানা করা হয়।

র‌্যাব-২ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, রাজধানীর অধিকাংশ ব্লাডব্যাংকই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না। রক্ত সংরক্ষণ করার জন্য ‘ব্লাড প্রিজারভেশন রেফ্রিজারেটর’ ব্যবহার করা আবশ্যক হলেও তারা সাধারণ ফ্রিজ ব্যবহার করে। রক্ত নেয়ার সময় হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিস, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া জীবাণু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রক্ত সংগ্রহ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। রক্তের গ্রুপ ও ক্রসম্যাচিং পরীক্ষা করেই রোগীর শরীরে রক্ত দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র বিধিমালা অনুসারে ব্লাডব্যাংকগুলোতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একজন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও একজন টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে খুব কমই তা পাওয়া যায়। মালিক ও কর্মচারীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এজন্য প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণে ব্লাডব্যাংকগুলো কিছুটা নিয়ম-নীতির মধ্যে এসেছে বলে দাবি করেন এই ম্যাজিস্ট্রেট।

পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকাসক্তদের ব্লাড ব্যবহারে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক। ব্লাডব্যাংকগুলো নিয়মিত মনিটর করার দাবি জানিয়ে অধ্যাপক ডা, নিলুফার সুলতানা বলেন, রক্ত দিয়ে জীবন রক্ষা করা হয়। বিশুদ্ধ রক্তের নিশ্চয়তা দিতেই ব্লাডব্যাংকগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। সেইসঙ্গে রক্তদানে প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে যেসব ব্লাডব্যাংক নিয়ম-নীতি মানছে না এবং অবৈধভাবে গড়ে উঠছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল-ক্লিনিক বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. বিধু ভূষণ ভৌমিক। তিনি বলেন, রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র বিধিমালা মেনেই রক্ত বিক্রি করতে হবে। যারা রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য স্যালাইন মেশানোসহ নানা অনিয়ম করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

“onb”

0 5100

স্বাস্থ্য ডেস্ক:  আসলে গ্যাস্ট্রিক শব্দের প্রকৃত অর্থ কিন্ত পাকস্থলি বা (Stomach) আর যাকে আমরা গ্যাস্ট্রিক পেইন বলে থাকি তা কিন্ত আসলে সম্ভবত পেপটিক আলসার এর ব্যথা।  খালিপেটে থাকলে আমাদের পেটের উপরিভাগে যদি ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভুত হয় তবে তাকে আমরা সাধারণত গ্যাস্ট্রিক পেইন বলে ডেকে থাকি।

তারপরও বলা প্রয়োজন যে পেটের উপরি অংশে শুধু পেপটিক আলসার এর কারনেই ব্যথা হয়না , ব্যাথা বা জ্বালাপোড়ার অন্য কারন ও আছে।

মানুষের পাকস্থলি খুব শক্তিশালী এসিড উৎপন্ন করে থাকে, আর একে নিস্ক্রিয় করার জন্য রয়েছে বেশ শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থাও, যখন এদের মধ্যে ভারসাম্য নস্ট হয়ে এসিডের আধিক্য দেখা দেয় তখন পাকস্থলির গায়ে, গলনালির শেষে বা ক্ষুদ্রান্তে ঘা হয়। এর নামই পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)। অবশ্য হেলিকোব্যক্টার পাইলোরি (Helicobacter pylori) নামক জীবানুটিকে সরাসরি আলসার হবার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে অনেক আগেই, তবে ব্যথানাশক বা অন্যান্য কিছু অসুধও আলসার হবার জন্য সরাসরি দায়ী। ধুমপান, এলকোহল সেবন, অতিরিক্ত ক্রোধ বা উত্তেজনা প্রদর্শণ ইত্যাদি পেপটিক আলসারের ঝুকি অনেক গুনে বাড়িয়ে দেয়।

বার বার পেটের উপরি অংশের মাঝ বরাবর ব্যথা বা জ্বালা পোড়া করা যা সাধারণত খাবার পরে কমে যায় এবং বছরে বেশ কয়েকবার হয় এমনটি হলেই ধরে নেয়া হয় যে রোগীর পেপটিক আলসার জাতীয় রোগ রয়েছে। তবে অমন উপসর্গ হবার নানাবিধ কারন রয়েছে। এন্ডোসকোপি (Endoscopy) পরীক্ষার মাধ্যমে আলসার আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা যায় সেই সাথে বায়োপসি (Biopsy) করে বোঝা যায় সেটা অন্য কোনো রোগ থেকে হয়েছে কিনা কিংবা জীবানু আছে কিনা।

চিকিৎসা শুরুর আগেই নিশ্চিত হওয়া জরুরী যে এটা পেপটিক আলসার রোগ কিনা কারণ পাকস্থলির ক্যান্সার, জি,ই,আর,ডি (GERD) এই জাতীয় রোগ গুলোতেও একই রকম উপসর্গ থাকে। আর চিকিৎসা শুরু করে দিলে ঐ রোগ গূলো নির্ণয় করা বেশ জটিল হয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই এর চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

ধুমপান, এলকোহল ও ব্যথানাশক অসুধ কম খেলে এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্রন করা যায়। জীবানুর আক্রমনে এই রোগ হলে নিয়ম অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ও আলসার প্রতিরোধক অসুধ খেতে হবে। এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ এ রোগের সাময়িক নিরাময় করে; রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল, ইসমিপ্রাজল, রাবিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল ইত্যাদি অসুধ আলসার ভালো হতে যথেষ্ট ভুমিকা রাখে। তবে সময়মত খাবার খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান এ রোগ প্রতিরোধের জন্য সহায়ক।

স্বাস্থ্য ডেস্ক: যাঁরা মরিচ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সুখবর আছে! তাঁরা হয়তো কিছু বেশি সময় বাঁচতে পারেন বা দীর্ঘ জীবন পেতে পারেন।
সম্প্রতি চীনের একটি বড় গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, যাঁরা সপ্তাহে একদিন বা এর কম খান, তাঁদের তুলনায় যাঁরা সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ঝাল বা মসলাজাতীয় খাবার খান, তাঁদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বেশি। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের বরাত দিয়ে কানাডিয়ান লিভিং প্রকাশ করেছে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।
৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ৪৮ লাখ সাত হাজার লোকের ওপর চার বছর ধরে এ গবেষণা চালানো হয়।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাঁরা তাজা এবং শুকনো মরিচ দিনে অন্তত এক অথবা দুবার খান, তাঁদের জীবনে রোগবালাই কম থাকে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মসলাজাতীয় খাবার ক্যানসার, কিছু হার্টের অসুখ এবং শ্বাসের বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি কমায়।
চীনা একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সের গবেষকরা বলেন, তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ সম্পর্ক বোঝার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে।
গবেষকরা বলেন, মরিচের মধ্যে রয়েছে বায়োক্যাটিভ উপাদান। যেমন: ক্যাপসেইচিন, ভিটামিন-সি এবং অনান্য পুষ্টি, যা দেহের জন্য ভালো।
গবেষকরা বলেন, মরিচের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিওবেসিটি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটোরি এবং অ্যান্টিক্যানসারের গুণ। শুকনো মরিচের থেকে কাঁচামরিচের মধ্যে এই দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক বেশি। তাই খাদ্যতালিকায় মরিচ রাখার পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ সংবাদ

0 87
স্টাফ রিপোর্টার: আজ ১৫ ই আগস্ট ধোবাউড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এর ৪৩ তম শাহাদত বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস র‌্যালী ও আলোচনা...

বাণিজ্য

0 1119
ধোবাউড়া সংবাদদাতা: গতকাল শুক্রবার বেলা ২টায় ধোবাউড়া বাজারে সিএনজি অটোটেম্পু-মাহিন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়ন ধোবাউড়া-উপজেলা শাখার উদ্যোগে শ্রমিক কার্ড বিতরণ ও পরিচিতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।...
Web Design BangladeshBangladesh Online Market