নির্বাচনের আগাম বার্তা-ডিসেম্বরে পৌরসভা মার্চে ইউপি নির্বাচন

নির্বাচনের আগাম বার্তা-ডিসেম্বরে পৌরসভা মার্চে ইউপি নির্বাচন

0 15265
ঢাকা: চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভা ও আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় আড়াইশ’ পৌরসভা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে স্থানীয় এ নির্বাচনটি সম্পন্ন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। কমিশনের পক্ষ থেকে নিজস্ব উদ্যোগে একটি তালিকা করা হলেও মন্ত্রণালয়ের তালিকা না পাওয়া এবং তাদের নির্দেশনা না মেলায় বেশিদূর এগুতে পারেনি ইসি। বার কয়েক চিঠি চালাচালির পর সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর তালিকা দিয়ে ইসিতে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ফলে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এখন আর কোনো বাধাই রইল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমান পৌরসভার সংখ্যা ৩২৪টি। এর মধ্যে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ দফায় দেশের ২৫৭ পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আরো বেশকিছু পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত পৌরসভার মেয়াদ প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে। সে অনুযায়ী ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ওইসব পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ১৭ জুন পৌরসভার তালিকা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. খলিলুর রহমান কমিশন সচিবের কাছে তালিকা পাঠান। সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দিয়ে দেশের ৩২৩টি পৌরসভার তালিকা দিয়েছে সরকার।
ইসিতে পাঠানো তালিকায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জানিয়েছেন, এবার নির্বাচন উপযোগী পৌরসভাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১১ সালে ভোট হয়েছে এমন ২৪০টি এবং সীমানা এবং আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি হওয়া আরো ১৩টি। তবে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম চলমান ও মামলা অনিষ্পন্ন থাকায় ৩০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন অনুপযোগী বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যথাসময়ে উপযোগী পৌরসভায় নির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব কিছু পর্যালোচনা করে বিবেচনার জন্য কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব পৌরসভার ভোট করতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে ইসি সচিবালয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচনও সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ মার্চ থেকে জুলাই মাসে পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে জানুয়ারি মাসের দিকে ইউপিগুলোর তফসিলও ঘোষণা করতে হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায়ও এ বিষয়টি তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী।
এদিকে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ চলায় নতুন ভোটার তালিকা দিয়ে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছে ইসি। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই করতে হবে ভোট। হালনাগাদ নিয়ে ইসির সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিকে উপযুক্ত পৌরসভাগুলোর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। জানুয়ারিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলে সে তালিকা দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা হলেও নতুন ভোটাররা পৌরসভায় ভোট দিতে পারবেন না। তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, কর্তন, স্থানান্তর কার্যক্রমও আইন অনুযায়ী বন্ধ থাকে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে যে এলাকায় নির্বাচন হবে সে এলাকায় হালনাগাদ কাজ পিছিয়ে দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Leave a Reply