ধোবাউড়ায় হুমকীর মুখে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, নেপথ্যে পিআইও জাকির হোসেন

ধোবাউড়ায় হুমকীর মুখে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, নেপথ্যে পিআইও জাকির হোসেন

ঘোষগাঁও আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে বালি ভরাটের ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, ঢাকা হতে ঘোষগাঁও আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের মাটির কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রকল্পের অনুকূলে ১৬৭.৮৩২ মে:টন গম বরাদ্ধ দেয়া হয়। এই প্রকল্পে ৫০টি ভূমিহীন পরিবারের ব্লক নির্মাণের কথা রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হক এ প্রকল্পের সভাপতি। প্রকল্পে পাশ্ববর্তী পাহাড়ী নিতাই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে সম্পূর্ণ বালি দিয়ে স্থানটি ভরাট করা হচ্ছে। ফলে নিতাই নদীর পাহাড়ী ঢলে এই বালির ভিটা যে কোন তাসের ঘরের মতোর বিলীন হয়ে যেতে পারে আশংকা করছেন স্থানীয়রা । চুক্তিভিত্তিক স্বল্প মূল্যে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করে বরাদ্ধের সিংহভাগ অর্থ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহ: জাকির হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হকের যোগসাজশে আত্নসাতের পায়তাঁরা চলছে বলে এলাকাবাসী দাবী করেছেন। সরকারী বরাদ্ধ আত্নসাত করতে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে শ্রমিকের স্বাক্ষরের জায়গায় নিজেরাই স্বাক্ষর ও টিপসহি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অথচ মাটি কাটার কাজে কোন শ্রমিক নেওয়া হয়নি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮এপ্রিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহ: জাকির হোসেন এ প্রকল্পের ডিও ছাড় করেন। ৯ এপ্রিল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ১ম কিস্তির ২১.২৫০ মে:টন গম উত্তোলন করা হয় যার ডিও নং-৫৫১৫৫৯৪  এবং ১০ এপ্রিল পুনরায় ২য় কিস্তির ২১.২৫০ মে:টন গম মুন্সিরহাট খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করা হয় যার ডিও নং-৫৫১৫৫৯৫। মোট ৪২.৫০০ মে:টন গম উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রির খবর পেয়ে প্রকল্প সভাপতি ঘোষগাও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল হককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে ইতস্তত করেন। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল ৩য় কিস্তির ২১.২৫০ মে:টন ও ১৯ এপ্রিল ৪র্থ কিস্তির ২১.২৫০ মে:টন গম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ডিও নিয়ে মুন্সিরহাট খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করে তাও কালোবাজারে বিক্রি করার খবর পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে পিআইও জাকির হোসেনকে জানালে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও তিনি অজ্ঞাত কারণে কোন পদক্ষেপ নেননি। এ ব্যাপারে পিআইওর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন , ‘ আমি নিয়মের বাইরে কিছু করি নাই। সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে জানে। আর আশ্রয়ন প্রকল্প আনতে হলে উপর মহলে অনেক খরচ করে আনতে হয়। তা এমনিতেই আসেনা।’  তবে আশ্রয়ন প্রকল্পে মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজনু মিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।’ এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে খরস্রোতা নিতাই নদী থেকে প্রকল্প সভাপতি শামছুল হক একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলণ করে প্রকল্পের স্থানটি ভরাট করেছেন। সাধারণত আশ্রয়ন প্রকল্পের ব্যারাক নির্মানে তাজা বালি ভরাট করা হয় হয় না। কিন্তু পিআইও’র যোগসাজশে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেই নিজেরা ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এদিকে প্রকল্পের বালি উত্তোলনের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এখন এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত বাকী ৮২.৮৩২ মে:টন গম গোপনে উত্তোলনের পর কালোবাজারে বিক্রি করে ভাগাভাগির পাঁয়তারা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে একাধিক সূত্র দাবী করেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহ: জাকির হোসেন ধোবাউড়ায় যোগদানের পর থেকেই সুকৌশলে তার দপ্তরের বিভিন্ন খাত থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। কেউ কেউ বলছেন, সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক ধোবাউড়া শাখায় এপ্রিল মাসের হিসেব তদন্ত করলে পিআইও জাকির হোসেনের অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি ধরা পড়তে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Leave a Reply