এন্ড্রয়েড ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহার

এন্ড্রয়েড ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহার

0 3281

বাপ্পী খান: আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানের অজস্র আবিষ্কার আমাদের জিবনকে নিয়ে গেছে উৎকর্ষতার এক উচ্চ শিখরে এবং এর অবিরাম পথচলা যেন থেমে নেই। বিজ্ঞানের এই সব আবিষ্কার যেমন আমাদের জন্য আশির্বাদ তেমনি এর ক্ষতির দিকটাও হেলাফেলার বিষয় নয়। বিশেষ করে এসবের ব্যবহারের শুরুতে কম ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়না। এই যেমন ধরুননা আমাদের জিবনে মোবাইল ফোন নামের ছোট ডিভাইসটি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাড়িয়ে গেছে। এর বহুমুখী ব্যবহার আমাদের কর্মময় জিবনকে করেছে অনেক সহজ ও সাবলীল। মোবাইল ফোনের নিত্য নতুন সংস্করণ আসছে আরও নতুন সব ফিচার নিয়ে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতিনিয়ত । বর্তমানে অনেক ধরণের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরণের অপারেটিং সিস্টেম প্রচলিত আছে তার মধ্যে বহুল জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম এর নাম ‘এনড্রয়েড’। এই অপারেটিং সিস্টেমটি সারা বিশ্বের মোস্ট পপুলার সার্চ ইঞ্জিন ‘গুগল’ এর তৈরিকৃত যা বিভিন্ন ট্যাবলয়েড পি.সি. ও মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ‘এনড্রয়েড’ ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার সাবলীল তবে এই ফোনকে যারা ‘মডেম’ হিসেবে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করতে চান তাদের অনেকেই ব্যাপক ঝামেলার মধ্যে পড়ে যান বা অনেকেই জানেন না কিভাবে এটিকে ব্যবহার করতে হয়। আমার এক বন্ধুকে দেখলাম গুগলে ‘এনড্রয়েড’ পি.সি সুইট খোজ করতে করতে হয়রান। কিন্তু এর যে একটি সহজ পদ্ধতি আছে অনেকের মতো তার কাছেও তা ছিল অজানা। বিষয়টি আমার জানা থাকায় আমার বন্ধুর ‘ঝামেলা মুক্তি’র ‘বিশেষ অবতার’(তার কথায় আমি) হিসেবে তার কাছ থেকে বিশেষভাবে আপ্যায়িত হয়েছিলাম(এক বাটি মুড়ি ও এক কাপ লিকার চা)। তার এই বিশেষ আপ্যায়ন আমার অনেকদিন মনে থাকবে এবং খুব মজাও পেয়েছি বটে। যা হোক আমি আজ আপনাদের কিভাবে একটি ‘এনড্রয়েড’ ফোনকে ‘মডেম’ হিসেবে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় তার একটি সহজ পদ্ধতি শেয়ার করবো যা হয়তো আমার বন্ধুর ‘ঝামেলা মুক্তি’র মত অনেকের কাছে একটি ‘সোলায়মনি তাবিজ’এর কেরামতি হতে পারে। এর জন্য প্রথম শর্ত হলো আপনার ফোনে থাকা ‘সিম’এ ইন্টারনেট ডাটা(অনেকেই কথ্য ভাষায় ‘এম.বি.’ বলে থাকেন) মজুদ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে যারা প্র্যাকটিক্যালি করে দেখতে চান তাদেরকে অনুরোধ করবো তাহলে আপনার ‘এনড্রয়েড’ ফোনটি হাতে নিন। চলে যান মেনুতে, এবার খুজে বের করুন Settings  কোথায় আছে। পেয়েছেন? (না পেলে সেটা আপনার ব্যর্থতা, সেক্ষেত্রে কারো সাহায্য নিন)যদি পেয়ে থাকেন তাহলে Settings এ ক্লিক করুন, Settings এ ক্লিক করার পর অনেক গুলো অপশন আসবে তার মধ্যে পঞ্চম অপশন হলো More…। এবার এই More… এ ক্লিক করুন…। করেছেন? যদি ক্লিকটি যথাযথভাবে করে থাকেন তাহলে চারটি অপশন আসবে তার মধ্যে ৩য় অপশনটি হলো Tethering & portable hotspot । এখন এই Tethering & portable hotspot এ ক্লিক করুন। ক্লিকটি যথাযথভাবে হলে চারটি অপশন আসবে যথাক্রমে- Wi-Fi hotspot, USB tethering, Bluethooth tethering  ও  Hotspot & tethering setting । অপশনগুলো আসার পর এখানে একটি বিষয় ভালো করে লক্ষ্য করুন তাহল এখানে ২য় অপশনটি হল USB tethering এবং এই অপশনই হল আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যের দরজা যা ঝাপসা দেখাচ্ছে এবং অনেকটা অদৃশ্য থাকার মতো আরও দু:খের কথা এখানে ক্লিক করলে কোনও কাজ হচ্ছেনা। কপাল কুচকে মাথা চুলকাচ্ছেন নিশ্চয়ই, এই ঝাপসা হওয়ার কারণ হল এটি বর্তমানে সক্রিয় নয়। এবার চিন্তা না করে আসুন এটিকে সক্রিয় করি। এই অপশন থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে ইউ.এস.বি ক্যাবল দ্বারা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে সংযোগ দিন, সে ক্ষেত্রে আপনার ফোনের চার্জারের ক্যাবলটিই উত্তম হবে। সংযোগ দেওয়ার পর দেখুনতো কি হলো? সাথে সাথে মোবাইল স্ক্রিনে ইউ.এস.বি কানেক্টর সম্বলিত ‘এনড্রয়েড’ এর সবুজ রঙের লোগোর সাথে USB Connected  এবং কিছু ইংরেজী বিবরণ সহ নিচে বড় করে Turn on USB storage লিখাটি আসছে কিনা এবং চার্জ হচ্ছে কিনা ? যদি না আসে তবে বুঝবেন ইউ.এস.বি ক্যাবলটি নষ্ট বা সমস্যা আছে বা সাপোর্ট করছেনা অথবা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ইউ.এস.বি পোর্টে অর্থাৎ যেখানে আপনি ক্যাবলটি লাগিয়েছেন সেখানে সমস্যা আছে। আর যদি আসে তাহলে আপনি ফোনের স্ক্রিনে কোন অপশনে ক্লিক না করে সরাসররি ফোনের ব্যাক বাটন টাচ্ করে ডিসপ্লেতে আসা নোটিশটি কেটে দিন। এবার দেখুন আপনার ফোনে USB tethering অপশনটি সক্রিয় হয়ে গেছে এবং অন্যান্য অপশনগুলোর মতোই ধবধবে সাদা দেখাচ্ছে। এবার আপনার শেষ কাজ হিসেবে যে কাজটি করবেন তা হলো সক্রিয় হওয়া USB tethering অপশনটিতে আলতো করে ক্লিক করে দিন, সাথে সাথে লেখাটির পাশে ছোট বক্সটিতে একটি ঠিক চিহৃ উঠবে। ব্যস্! আপনার কম্পিউটারে ইন্টারনেটের দরজা চিচিংফাক! এবার আপনার যত ইচ্ছে(তবে আপনার সিমের ডাটা বান্ডেল এর সিমাবদ্ধতার মধ্যে)ব্রাউজ করুন, ডাউনলোড করুন আর আপলোড করুন। এখন হয়ত আপনার মনে একটি প্রশ্নের উদয় হতে পারে এবং তাহল আমি মোবাইলের সাথে কম্পিউটারে সংযোগটা মোবাইলের অপশনগুলোতে যাওয়ার আগে দিতে বললাম না কেন বা দিলে কি হতো? এর উত্তরটা হল অনেক ফোনে  কম্পিউটারে সংযোগ দেওয়ার পর স্ক্রিন টাচ্ ঠিক মত কাজ করেনা যার কারণে আপনি হয়তো মোবাইলের সেটিংসগুলোতে ঠিক মত যেতেই পারতেন না কেননা আপনি স্ক্রিনে টাচ্ করতেন এক জায়গায় কিন্তু কাজ হতো আরেক জায়গায় ফলে হিতে বিপরীত হতো ঝামেলা আরও বেড়ে যেতে পারতো এজন্য আপনার সুবিধার্থে আমি কম্পিউটারে সংযোগ দেওয়ার আগেই আপনার ফোনের অপশনগুলোতে যেতে বলেছি। এরপরেও কোন সমস্যার সম্মূখীন হলে আমাকে কমেন্টস করুন আমি আপনার সমস্যা বুঝে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো, ধন্যবাদ সবাইকে, আল্লাহ হাফেজ।

কোন মন্তব্য নেই

Leave a Reply